| নিজের শখ, পছন্দ-অপছন্দ, রুচিবোধ, স্বপ্ন ইত্যাদি বিষয়ে লিখুন |
~আমার শখ, " ইসলামের গণ্ডির ভেতরে থেকে উৎপাদনশীল ও কল্যাণকর কাজে সময় কাটাতে আমি পছন্দ করি।" • দ্বীনি কিতাব অধ্যয়ন: কুরআন-হাদিসের গভীর জ্ঞানার্জন এবং সালাফদের (পূর্বসূরিদের) জীবনী পড়া আমার অন্যতম শখ। সীরাত চর্চা: রাসূলুল্লাহ (সা.) এবং সাহাবায়ে কেরামের জীবন নিয়ে পড়া ও তা থেকে শিক্ষা নেওয়া। • প্রকৃতি দর্শন: আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা (তাফাক্কুর ফিল খালক) এবং অবসরে শান্ত পরিবেশে সময় কাটানো।জীবনের লক্ষ্য ও স্বপ্ন (আহদাফ ও তামান্নিয়াত) দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের মেলবন্ধনে একটি সুন্দর জীবন গড়ে তোলাই আমার মূল লক্ষ্য। • দ্বীনের খিদমত: নিজের কর্মক্ষেত্রের পাশাপাশি সাধ্যমতো দ্বীনের দাওয়াত ও খিদমতে যুক্ত থাকা। • সুন্নাহভিত্তিক পরিবার: এমন একটি পরিবার গঠন করা, যা সুন্নাহর আলোয় আলোকিত হবে এবং সন্তানদের আদর্শ মুসলিম হিসেবে গড়ে তুলবে। • আখিরাতের মুক্তি: জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর সন্তুষ্টি (রিদ্বওয়ানুল্লাহ) অর্জন এবং আখিরাতে সফল হওয়া। ~ব্যক্তিগত পছন্দ, "দৈনন্দিন জীবনে শালীনতা এবং সরলতাকে আমি সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিই।" • পোশাক: মার্জিত, সুন্নতি এবং শরীয়তসম্মত পোশাক পরিধান করা।পরিবেশ: দ্বীনি মজলিস, নেককার মানুষের সান্নিধ্য এবং ফেতনামুক্ত শান্ত পরিবেশ। • আচার-ব্যবহার: পারস্পরিক লেনদেনে সততা, স্পষ্টবাদিতা এবং মানুষের সাথে সদাচরণ করা। ~ ব্যক্তিগত অপছন্দ, "ইসলাম যে বিষয়গুলোকে নিরুৎসাহিত করেছে, ব্যক্তিগত জীবনে আমি সেগুলো থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করি।" • বেপর্দা ও অপসংস্কৃতি: যেকোনো ধরনের শরীয়তবিরোধী পরিবেশ, বেপর্দা এবং পশ্চিমা অপসংস্কৃতির অনুকরণ। • মিথ্যা ও গীবত: আড্ডায় বা কথায় পরনিন্দা (গীবত), অহংকার ও হিংসার চর্চা করা। • অপচয় ও বিলাসিতা: সময় এবং অর্থের অপচয় করা, এবং অতিরিক্ত জাঁকজমকপূর্ণ জীবনযাপন। ~লোভ (আল-হিরস): শরীয়তের পরিভাষায় লোভ হলো দুনিয়ার মোহ, সম্পদ ও পদের প্রতি মানুষের অতিরিক্ত ও অবৈধ তীব্র আকাঙ্ক্ষা। •রেফারেন্স: "প্রচুর পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা তোমাদেরকে গাফেল রাখে।" (সূরা আত-তাকাসুর, আয়াত: ১) / রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "তোমরা লোভ-লালসা থেকে বেঁচে থাকো, কারণ এই লোভই তোমাদের পূর্ববর্তীদের ধ্বংস করেছে।" (সহীহ মুসলিম) ~হিংসা (আল-হাসাদ): শরীয়তের পরিভাষায় হিংসা হলো অন্যের নিয়ামত দেখে মনে কষ্ট পাওয়া এবং তার ধ্বংস কামনা করা। •রেফারেন্স: "নাকি আল্লাহ নিজের অনুগ্রহে মানুষকে যা দিয়েছেন, সেজন্য তারা তাদের হিংসা করে?" (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৫৪) / রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "তোমরা হিংসা থেকে বেঁচে থাকো। কেননা হিংসা নেক আমলকে এমনভাবে খেয়ে ফেলে, যেমন আগুন কাঠকে খেয়ে ফেলে।" (সুনানে আবু দাউদ) ~অহংকার (আল-কিবর): শরীয়তের পরিভাষায় অহংকার হলো নিজেকে অন্যের চেয়ে শ্রেষ্ঠ মনে করা এবং সত্যকে অস্বীকার ও মানুষকে অবজ্ঞা করা। • রেফারেন্স: "নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো দাম্ভিক, অহংকারীকে পছন্দ করেন না।" (সূরা লোকমান, আয়াত: ১৮) / রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যার অন্তরে সরিষা দানা পরিমাণ অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।" (সহীহ মুসলিম) ~রুচিবোধ ও মানসিকতা, "আমি একজন সহজ-সরল এবং দ্বীনদার জীবনসঙ্গী আশা করি, যে দ্বীনের পথে চলতে সাহায্য করবে।" • পারিবারিক জীবন: পর্দাপ্রথা পুরোপুরি মেনে চলা এবং হালাল-হারামের ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকা। • রুচি: দ্বীনি ও হালাল বিনোদন এবং রুচিশীল ঘরোয়া পরিবেশ পছন্দ করি। • মনোভাব: সুখে-দুঃখে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ (শোকরগুজার) থাকা এবং অল্পে সন্তুষ্ট (কানা'আত) থাকার মানসিকতা। ~জীবনের নেক ইচ্ছা ও আকুলতা, "আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে জীবনে কিছু কল্যাণকর কাজ করার দৃঢ় ইচ্ছা পোষণ করি।" • ইলমে দ্বীনের প্রচার: নিজের অর্জিত দ্বীনি ইলম ও আমল মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া এবং সমাজ সংস্কারে ভূমিকা রাখা। • হালাল উপার্জন: সম্পূর্ণরূপে সুদ, ঘুষ ও সন্দেহযুক্ত লৌকিকতামুক্ত হালাল রিযিকের (তাইয়্যিবাহ) ব্যবস্থা করা। • বাইতুল্লাহর যিয়ারত: দ্রুততম সময়ের মধ্যে পিতা-মাতা এবং জীবনসঙ্গীকে সাথে নিয়ে পবিত্র হজ বা ওমরাহ পালন করা। • আদর্শ গৃহকোণ: এমন একটি বাড়ি তৈরি করা যেখানে নিয়মিত কুরআন তিলওয়াত, যিকরুল্লাহ এবং সুন্নাহর অনুশাসন থাকবে। ~নেক স্বপ্ন, • দ্বীন ও ইসলামের প্রচার: কোরআন ও সুন্নাহর সঠিক জ্ঞান অর্জন করে নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করা এবং সমাজে তা ছড়িয়ে দেওয়া। ইসলামের সুমহান আদর্শ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া আমার জীবনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। • নৈতিক সমাজ গঠন: পবিত্র কোরআন ও হাদিসের শিক্ষ কাজে লাগিয়ে সমাজে শান্তি, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা প্রতিষ্ঠা করা। হিংসা, অহংকার ও অনৈতিকতা দূর করে একটি সুন্দর ও আদর্শ সমাজ গঠনে সাধ্যমতো অবদান রাখা। • ইলমে দ্বীনের খিদমত: জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ইলমে দ্বীনের চর্চা ও গবেষণায় নিজেকে নিয়োজিত রাখা। নির্ভরযোগ্য আলেম ও দাঈ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলে মানুষের মাঝে দ্বীনি খেদমত আঞ্জাম দেওয়া। • আত্মশুদ্ধি ও পরকাল প্রস্তুতি: রিযায়ে ইলাহি বা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই আমার জীবনের মূল চাবিকাঠি। নিয়মিত ইবাদত-বন্দেগি ও সুন্নতের অনুসরণের মাধ্যমে নিজের নফসকে পরিশুদ্ধ করা এবং আখিরাতের সফলতার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া। ~ ভালোলাগা, "ভালোলাগার বিষয়ে ইসলামী শরীয়তের গুরুত্বপূর্ণ নসীহ, • মহব্বতের মাপকাঠি (আল-হুব্বু লিল্লাহ): জীবনের সব ভালোলাগা যেন আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা.)-এর সন্তুষ্টির অধীন হয়। যে জিনিস আল্লাহ পছন্দ করেন, তাকেই মনে-প্রাণে ভালোবাসাই হলো প্রকৃত ঈমান। • হালাল-হারামের সীমারেখা (হুুদুদুল্লাহ): আপনার কোনো শখ বা ভালোলাগা যেন শরীয়তের সীমা লঙ্ঘন না করে। কোনো রুচিশীল জিনিস পছন্দ করা ভালো, তবে তা যেন অপচয় (ইসরাফ) বা রিয়া (লৌকিকতা) পর্যন্ত না পৌঁছায়। • অল্পে তুষ্টির মানসিকতা (আল-কানা’আত): দুনিয়ার কোনো সুন্দর জিনিস দেখে মন ব্যাকুল হলে সর্বদা আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবেন। আল্লাহ আপনাকে যা দিয়েছেন, তাতেই সন্তুষ্ট থাকা অন্তরের শান্তি এনে দেয়। • পার্থিব মোহাচ্ছন্নতা বর্জন (যুহদ ফিদ-দুনিয়া): দুনিয়ার কোনো হালাল ভালোলাগা (যেমন: সুন্দর পোশাক, ভালো খাবার বা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য) যেন আপনাকে আখিরাতের স্মরণ এবং ফরয ইবাদত থেকে গাফেল বা উদাসীন না করে দেয়। • অন্তর পরিষ্কার রাখা (তাযকিয়াতুন নাফস): চোখ ও অন্তরের ভালোলাগাকে সর্বদা কুপ্রবৃত্তি (নফস) থেকে মুক্ত রাখবেন। যা কিছু কল্যাণকর, তা ভালো লাগবে; আর যা কিছু গুনাহের দিকে টানে, তা থেকে অন্তরকে দূরে রাখাই হলো তাকওয়া। • নিয়তের বিশুদ্ধতা (ইখলাসুন নিয়্যাহ): আপনার প্রতিটি ভালোলাগা এবং শখের পেছনে যেন একটি নেক নিয়ত থাকে। যেমন: ভালো পোশাক পরার উদ্দেশ্য যদি হয় আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া প্রকাশ ও শালীনতা রক্ষা, তবে এই ভালোলাগাতেও আপনি সাওয়াব পাবেন।
|