| প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন কি? কবে থেকে পড়ছেন?
|
জি আলহামদুলিল্লাহ পড়ি। একাদশ শ্রেণী থেকে শুরু করেছি। আলহামদুলিল্লাহ, একটানা ৯০ দিন (তাকবীর উল উলা) এর সঙ্গে, জামাতের সঙ্গে প্রথম তাকবীরে সালাত আদায় করার সৌভাগ্য হয়েছে। |
| সাধারণত সপ্তাহে কত ওয়াক্ত নামায আপনার কাযা হয়?
|
ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ কাজা করি না। তবে অসুস্থতা এবং কোন কারণবশত বা বেকায়দায় পড়লে তখন কাজা হয়ে যায়। কখনো-কখনো সফরে দুই থেকে তিন ওয়াক্ত সালাত কাজা হয়ে যায়। তা পরক্ষনে আবার কাজা সালাদ আদায় করি। |
| শুদ্ধভাবে কুরআন তিলওয়াত করতে পারেন?
|
আলহামদুলিল্লাহ পারি। তবে শুদ্ধভাবে তিলাওয়াতের জন্য নতুন করে আস সুন্নাহ স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইন্সটিটিউটে এ শিখছি।
|
| আপনার মানসিক বা শারীরিক কোনো রোগ আছে?
|
না, নেই।
|
| মাজার সম্পর্কে আপনার ধারণা বা বিশ্বাস কি?
|
ইসলামের দৃষ্টিতে মাজার পূজা বা ভক্তি করা বিদআত ও শিরকের অন্তর্ভুক্ত। কুরআন ও হাদিস অনুযায়ী, ইবাদত শুধুমাত্র আল্লাহর জন্যই নির্ধারিত। তাই আমি মাজার ভক্তিতে বিশ্বাস করি না।
|
| আপনার পড়া হয়েছে এমন অন্তত ৩ টি ইসলামি বই এর নাম লিখুন
|
আল-কোরআন, ফরজে আইন, গাইরত, যত্নে থাকুক সংসার, ঈমানের অপরিহার্য পাঠ, রমাদান প্ল্যানার (সংস্করণ, ২০২৬), মাহে রমযানের ২৭ আমল, ম্যাসেজ, বেলা ফুরাবার আগে, পারলৌকিক গৃহস্থের অহংকার, মুমিনের ২৪ ঘণ্টা,
|
| আপনার পছন্দের অন্তত ৩ জন আলেমের নাম লিখুন
|
শায়খ আহমাদুল্লাহ, আবু ত্বহা মোঃ আদনান, মিজানুর রহমান আজহারী, আব্দুল্লাহ, সৈয়দ মুকাররম বারি।
|
| নিজের শখ, পছন্দ-অপছন্দ, রুচিবোধ, স্বপ্ন ইত্যাদি বিষয়ে লিখুন |
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম এই অস্থায়ী পৃথিবীতে আমি মহান আল্লাহর খুবই সাধারণ একজন গুনাহগার বান্দা। আয়নার সামনে দাঁড়ালে নিজের চেহারাটা হয়তো দেখতে পাই, কিন্তু আমার মন সবসময় আমাকে মনে করিয়ে দেয়। আমি এখানে কেবলই একজন মুসাফির, আমার আসল গন্তব্য তো পরকাল। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা খুব সহজ অথচ অকাট্য একটি সত্যের কথা আমাদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন: "كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ" "প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।" (সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১৮৫) কুরআনের এই আয়াতটি নিয়ে ভাবলে আমার হৃদয় গভীরভাবে নাড়া দিয়ে ওঠে। তখন মনে হয়, আমার জীবনের প্রতিটি নতুন সকাল যেন রবের পক্ষ থেকে পাওয়া এক ভালোবাসার উপহার। এই উপহার হলো নিজেকে আরেকটু শুধরে নেওয়ার সুযোগ, যেন অনন্তকালের সেই জীবনের জন্য আমি সামান্য কিছু নেক আমল গুছিয়ে নিয়ে রবের সামনে দাঁড়াতে পারি। ছোট থেকেই বাস্তবতার সাথে যুদ্ধ করে পরিশ্রম করে বড় হয়েছি। হাজারো বিষন্নতা, অপূর্ণতা, নিঃসঙ্গতা আঁকড়ে বেড়ে ওঠা এই আমি। অনেক কষ্টে বড় হয়েছি। তবে সবসময় চেষ্টা করেছি নিজেকে একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে। জানিনা কতটুকু পেরেছি। তবে চেষ্টা করে চলেছি। চেষ্টা করে যাবো ইনশাআল্লাহ। নিজের সম্পর্কে এতটুকু বলতে পারবো, কখনো সজ্ঞানে কারো খারাপ হয় বা অন্যায় হয় এমন কোন কিছু করিনি আলহামদুলিল্লাহ। এই বায়োডাটা প্রথম ধাপের জানা-শোনার মাধ্যম। আরো অনেক কথা থেকে যায় ২৪ বছরের অভিজ্ঞতা তো আর ২৪০০ শব্দে বর্ণনা করা সম্ভব নয়। একটাই ইচ্ছে, আমার আহলিয়ার সাথে ছোট একটা সুন্দর সংসার গড়ার। যেখানে সম্পূর্ণ হালাল ইনকাম এর ছোট্ট সংসার হবে আমাদের। যদি আপনার অধিক বিলাসীতা না থাকে। তাহলে আমার বাবা মা য়ের সাথে কথা বলতে পারেন। হালাল উপার্জন ও দ্বীনের তৃষ্ণা: জীবন আমাকে হালাল উপার্জনের মর্যাদা ও আত্মনির্ভরশীল হতে শিখিয়েছে। স্কুল-কলেজ আর কর্মব্যস্ততার মাঝেই মক্তবের নূরানী শিক্ষা আমাকে পথ দেখিয়েছে। একসময় যে হাত গল্পের বইয়ে ডুবে থাকত, আলহামদুলিল্লাহ, আজ সেখানে জায়গা করে নিয়েছে পবিত্র কুরআন, সুন্নাহ ও সালাফদের জীবনী। আমি বিশ্বাস করি, ওহীর জ্ঞানই আত্মাকে প্রকৃতভাবে আলোকিত করে। হৃদয়ের লালিত স্বপ্ন: বুকে দুটি পবিত্র স্বপ্ন লালন করি—এক. নিজেকে কুরআনের আলোয় আলোকিত করা। এমন একজন নেককার ও লজ্জাশীলা জীবনসঙ্গিনী পাওয়া, যিনি হবেন আমার দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ সম্পদ এবং আগামী প্রজন্মকে দ্বীনের পথে গড়ে তুলতে ছায়ার মতো পাশে থাকবেন। পছন্দ ও অপছন্দ: আমার পরম প্রশান্তি লুকিয়ে আছে সালাতে, কুরআনের তিলাওয়াতে এবং প্রকৃতির মাঝে রবের সৃষ্টি নিয়ে ভাবনার মাঝে। আর যে কাজগুলো আল্লাহ অপছন্দ করেন—যেমন মিথ্যা, অহংকার বা গীবত—সেগুলো থেকে আমি নিজেকে সযত্নে দূরে রাখার চেষ্টা করি। আত্মশুদ্ধির চেষ্টা: মানুষ হিসেবে আমারও কিছু ভুল বা দুর্বলতা (যেমন: রাগ বা অলসতা) রয়েছে। তবে আমি নিরাশ হই না। প্রতিনিয়ত তওবা ও ইস্তিগফারের মাধ্যমে নিজেকে শোধরানোর চেষ্টা করি। কারণ আমার রব তওবাকারীদের ভালোবাসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন (সূরা আল-বাকারাহ: ২২২)। রবের দরবারে ফরিয়াদ: আমি এমন একটি স্নিগ্ধ জীবন চাই, যা তাওহীদ, সবর ও শোকরে ভরপুর থাকবে। হে দয়াময় রব! আপনি আমাকে হেদায়েতের পথে অবিচল রাখুন এবং আপনার সন্তুষ্টি অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমিন। সবশেষে, ছোট্ট এই জীবনে এতটুকু উপলব্ধি, সংসার জীবনে ভালো থাকতে হলে ছাড় দেয়ার মানসিকতা থাকতে হবে। আমি মানুষ, আমার ভুল-ত্রুটি থাবেই। তবে চেষ্টা করি যথাসম্ভব ভুল ত্রুটি এড়িয়ে চলার। দোয়া রাখবেন আল্লাহ তায়ালা যেন আমার মনের নেক আশাগুলো পূরণ করেন।
|