| অভিভাবক আপনার বিয়েতে রাজি কি না? |
বিয়েতে আমার মা, মায়ের পরিবারের সবাই সম্মতি আছে। তবে বাবা রাজি নয়। বাবা সন্তানের বিয়ে ব্যাপারে উদাসীন এমনকি চাচা ফুফু বাকিরাও।তাদের চিন্তা ভাবনা অনার্স, মাস্টার্স শেষ করে ভালো চাকরি,লাইফ সেটেলমেন্ট তারপর বিয়ে। তাই বাবা বিয়ের ব্যাপারে মত/ কোনো দায়িত্বে নেই, রাজনৈতিক কারণে তিনি দূরে থাকেন। বাবা চাচারা তারা থাকবে না। মায়ের পরিবারের খালা মামা নানি তারা দায়িত্বে থাকবেন। বাবা বলেছে" এখন বিয়ে করলে নিজ দায়িত্বে করবা, নিজের সংসার নিজে সামলাবা"। এর জন্য পরিবারে অশান্তি হবে / বাবা ঝামেলা করবে এরকম কিছু নয়। ইনশাআল্লাহ কোনো সমস্যা হবে না। (গার্ডিয়ান হিসেবে মা, মেঝোঁ ফুফু, মামা, খালা থাকবেন) । এলাকায় আমরা স্থানীয় এখানেই আমার জন্ম এবং এখানেই আমার বেড়ে উঠা। প্রতিবেশী , সমাজ ,মসজিদের ইমাম আশেপাশের মানুষ থেকে খোঁজ খবর নিবেন ইনশাআল্লাহ।
|
| বিয়ের পর স্ত্রীকে পর্দায় রাখতে পারবেন? |
অবশ্যই, পরিপূর্ণ পর্দা করতে হবে।
|
| বিয়ের পর স্ত্রীকে পড়াশোনা করতে দিতে চান? |
না।
|
| বিয়ের পর স্ত্রীকে চাকরী করতে দিতে চান? |
না
|
| বিয়ের পর স্ত্রীকে কোথায় নিয়ে থাকবেন? |
ভাড়া বাসায় (কর্মস্থলের ঠিকানা আশেপাশে) / (ঢাকায়) নিজ বাড়িতে
|
| আপনি বা আপনার পরিবার পাত্রীপক্ষের কাছে কোনো উপহার আশা করবেন কি না? |
কখনোই না (খুশি হয়ে/ হাদীয়া হিসেবেও কোনো কিছুই গ্রহণযোগ্য নয়)। জোরাজুরি করে দেয়াও সম্পূর্ণ নিষেধ। শুধুমাত্র একটাই প্রত্যাশা থাকবে দুই হাত ভরে নব দম্পত্তির জন্য দোয়া করে দিবেন।
|
| কেন বিয়ে করছেন? বিয়ে সম্পর্কে আপনার ধারণা কি? |
বিয়ে বলতে গেলে দুনিয়া এবং আখিরাত গোছানোর জন্য। বিয়ে মানবজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ, যা আল্লাহর নির্দেশ ও রাসুল (সা.)-এর আদর্শ অনুসারে জীবন গঠনের সুযোগ করে দেয়। বিয়ে জীবনে প্রশান্তি, ভালোবাসা, এবং পারস্পরিক দায়িত্ববোধ এনে দেয়। আমি বিয়ে করতে চাচ্ছি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে, একটি শান্তিপূর্ণ ও দ্বীনদার পরিবার গঠন করা,নিজের চরিত্র হেফাজত এবং জীবনের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জে একজন সঙ্গীকে পাশে পেতে। এটি আমার ব্যক্তিগত, মানসিক ও আধ্যাত্মিক উন্নয়নের পথ খুলে দেবে বলে বিশ্বাস করি ইনশাআল্লাহ। বিয়ে হলো দুইটি আত্মার মধ্যে একটি পবিত্র বন্ধন, যা ভালোবাসা, বিশ্বাস, সম্মান, এবং ত্যাগের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে। এটি কেবল পার্থিব চাহিদা পূরণের মাধ্যম নয়, বরং একটি ইবাদত, যেখানে স্বামী-স্ত্রী একে অপরের জন্য আবরণ হয় জীবনযাত্রাকে আল্লাহর পথে পরিচালিত করেন। বিয়ের মাধ্যমে পারস্পরিক বোঝাপড়া, মমতা, এবং সহমর্মিতার মাধ্যমে একটি সুন্দর ও পূর্ণাঙ্গ গড়ে তোলা সম্ভব। এটি শুধু ব্যক্তিগত জীবনের শৃঙ্খলা নয়, বরং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য দ্বীনদার ও নৈতিক জীবন গঠনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তবে আমার ক্ষেত্রে আমার বাবা বিয়েটা কঠিন করে ফেলেছে ...(বিয়েতে লুকানোর কিছু নেই এতে নাফরমানী ও বিশ্বাসঘাতকতা হবে , তাই পাত্রের ব্যাপারে সব কিছু জানার হক আছে ) তাই বিস্তারিত খুলে বলি... আমি জেনারেল লাইনের ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া ছেলে ,সেখানে চারদিকে ফ্রিমিক্সিং হারাম ফেতনা। আমার খুব কষ্ট হয় এসবের মধ্যে। এর জন্য আমি ক্লাস করি না, শুধু পরীক্ষার সময় গিয়ে পরীক্ষা দেই। আলহামদুলিল্লাহ আমি প্র্যাকটিসিং মুসলিম এবং ছোট থেকেই হালাল হারাম বিষয়টি মেনে চলি। এই ফেতনা ফ্যাসাদ জেনারেশনে নিজেকে রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।বিয়ের বিষয়টি আমি গভীরভাবে উপলদ্ধি প্রয়োজনবোধ করি এবং পরিবারকে ২০২৩,২০২৪ থেকে বলে আসছি বিয়ে করিয়ে দেয়ার জন্য । সর্বশেষ বাবাকে সাহস করে ২০২৫ সালে শুরুতে বলেছিলাম বাবা আমার বিয়ের প্রয়োজনীতা উপলদ্ধি করতেছি, আমার জন্য ব্যবস্থা করো। তারপর অনেক বুঝালাম কিন্তু তিনি রাজি হলেন না, তারপর তিনি বললেন টিউশনি করে তুমি কিছু করতে পারবে না, তোমাকে কেও মেয়ে দিবে না, কথাও বলতে পারবো না। অতঃপর আমি চেষ্টা করি চাকরি খুঁজতে থাকি এবং আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহর রহমতে চাকরি পাই । তারপর বাবাকে আবার বলার পর বাবা বিয়ে দিবে না, অনেকবার বলেছি বুঝাইছি তারপরও তিনি বুঝেন না।তিনি বললেন নিজের টা করে নিতে, পরিস্থিতি কঠিন করে ফেলছে।(আমার বাবা এক কথায় মানুষ, যেটা তিনি চান বুঝেন সেটাই রাইট)দোয়া করি আল্লাহ আমার বাবাকে আরও হেদায়েত দেক ও উত্তম বুঝ দান করুক।যাইহোক বিগত বছরে আল্লাহর রহমতে কয়েকটা কোম্পানিতে চাকরি করেছি, অভিজ্ঞতা নিয়েছি। সুবিধা অনুযায়ী করতেছি আবার ছাড়তেছি একটা ভালো জায়গায় সেটেল হওয়ার জন্য। আর এরই মাঝে অনার্স ফাইনাল ইয়ার চলমান। আল্লাহ্হুম্মাগফিরলি, আল্লাহ সহায় হোক, সহজ করুক। আমীন।
|