| নিজের শখ, পছন্দ-অপছন্দ, রুচিবোধ, স্বপ্ন ইত্যাদি বিষয়ে লিখুন |
শখ তো অনেক, কিন্তু খালেছ দ্বীনি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ। পছন্দ হল দ্বীন মোতাবেক চলা,তার বিপরীতটা অপছন্দ। সাদামাটা জীবন পছন্দ আমার। অন্যের দেখাদেখি করা, কার কত কি আছে, কে কেমন করে শোওফ করছে এগুলো আমার একদমই অপছন্দ। অনলাইন আছে, কিন্তু অনলাইনকে নিউজ পেপারের মত ব্যবহার করি। অনলাইনের কোন ট্রেন্ড ফলো করিনা, ফলো করা পছন্দও করি না। অন্যায় যেই করুক অন্যায় হিসেবেই দেখি, নিজের মা-বোন হলেও, নিজের বাপ-ভাই হলেও, নিজেদের উস্তাদ, নিজস্ব ঘরানার আলেম-উলামা হলেও। খুব মেহনতি একটা পরিবার আমার, আমিও মেহনতি। অলস সময় কাটানো দু'চোক্ষের বিষ। বিশেষ করে নিজের দক্ষতাকে উন্নতি না করে যতটুকু দরকার ততটুকু করে বসে থাকা ব্যক্তিদেরকে প্রাথমিক অবস্থায় মেনে চললেও দীর্ঘপথে চলতে গেলেএরা কখনই পাশে থাকতে পারে না। দু'মুখো মানুষদের সাথে জীবনেও বনিবনা হয়নি। মিথ্যা কথা বলা যাদের অভ্যাস তাদের সাথে উঠাবসা নেই বললেই চলে, আত্মীয় হোক বা অনাত্মীয়। স্বপ্ন আল্লাহর ঘর তওয়াফ করা, তার প্রিয় হাবিব (দ.) এর রওজায়ে আতহার দর্শন করা। পরিবারের সকলকে নিয়ে একবার হজ্ব করার স্বপ্ন দেখি। এবার আসি অপছন্দের ক্ষেত্রেঃ পর্দা, গাইরত, চারিত্রিক পবিত্রতা, দ্বীনি জরুরী ব্যাপারে গাফলতি সহ্য করা হবে না। পূর্বের ডিভোর্সের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে এগুলাই ছিল প্রধান কারণ। একজন আলেমের আহলিয়ার মধ্যে পর্দা না থাকে, পর্দা নিয়ে বারংবার ঝগড়া হলে, গাইরত না থাকলে, পর-পুরুষের সাথে কথাবার্তা, হাসাহাসি চলতে থাকলে, যে সমস্ত কাজে তার চরিত্রে দাঁগ পড়ে, যেমনঃ স্বামীর অনুমতি ছাড়া চলে যাওয়া, কোথায় গেলে না জানানো, অশালিন স্থানে যাওয়া, কীভাবে আছে, কতদিন আছে না জানানো প্রভৃতি কাজ হতে থাকলে তার আলেমের আহলিয়া না হয়ে কোন পাশ্চাত্য সংস্কৃতি প্রেমীকে বিয়ে করা উচিত। অর্থ সম্পদ সংক্রান্ত বিষয়াদিঃ একজন আলেমের অর্থনৈতিক অবস্থা কেমন হবে তা সাধারণভাবেই অনুমেয়, যদি সাথে ব্যবসা করে বা বিদেশে থাকে বা পারিবারিক অন্য কোন ইনকামের রাস্তা থাকে তাহলে তা ভিন্ন কথা, অন্যথা সর্বদাই স্বামীর আয়ের সাথে নিজের চাহিদার সামাঞ্জস্য করা। স্বামীর আয় অল্প কিন্তু প্রতি মাসেই যদি এমন খরচা তৈরী করা যা স্বামী দিতে পারবে কিন্তু ভবিষ্যতএর জন্য কোন কিছু জমা থাকবে না, তাহলে এমন চাহিদা তৈরী না করা, পূর্বের স্ত্রীর এমন চাহিদার কারণে নিঃস্ব অবস্থায় থাকতে হয়েছে, এমনকি এক বেলা না খেয়েও চাহিদা পূরণ করতে বাধ্য হয়েছি, তবুও সম্পর্ক টিকানো যায় নি। খোটা দেওয়াঃ খোটা দেওয়া নিজের জন্য যেমন অপছন্দ করি, অন্যের জন্যও অপছন্দ করি। স্বল্পে তুষ্ট থাকি, কেউ না থাকতে পারলে কোন সমস্যা নেই, সে যেন তার গণ্ডিতে থাকে, আমার সাথে সম্পর্কে দরকার নেই। দ্বীন পালনে গাফলতিঃ খুবই কষ্টের সাথে বলতে হয়, অনেক মেয়ে মাদরাসায় পড়েও নামাজকে আপন করতে শিখে নি। পাক-নাপাকির সময় শেষ হয়ে গেলেও নামাজের গাফলতি দেখা যায়, পবিত্রতা নিয়েও গাফলতি দেখা যায়। জানিনা অন্যান্য লাইনের কী অবস্থা। এ বিষয়গুলো আমার একদম পছন্দ না। জোর করে নামাজ পড়ানো, তেলাওয়াত করানো, আমল করানো, জরুরি কাজগুলো করানো কোনভাবেই দ্বীনদার নরনারীর নিদর্শন নয়। পরিবারের বড় ছেলে আমি, অবশ্যই আমার আহলিয়া হবেন পরিবারের বড় বউ। বড় বউয়ের দায়িত্ব অবশ্যই তার বুঝে আসা উচিত। সংসার করা উচিত অবশ্যই কোন লক্ষ্যকে সামনে নিয়ে, বিবাহ শুধু শারিরীক চাহিদা নয়, জরুরত পুরণ করা নয়, আখেরাতের পুঞ্জি তৈরী করা সংসারিক কাজের মাধ্যমে, পরিবার গঠন করা, নেক সন্তানাদী গড়তে আপ্রান চেষ্টা করা, যদি কোন লক্ষ্য না থাকে তাহলে শারিরীক জরুরত পূরণ হয়ে হলে সংসার নিরশ মনে হবে, বোঁঝা মনে হবে।
|