জীবনসঙ্গীর যেসব বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলী প্রত্যাশা করেন:
দ্বীনদার, নম্র–ভদ্র, সদা হাস্যোজ্জ্বল। খোশ মেজাজী। আমলদার মানুষ। বিশেষ করে যে আমাকে বুঝবে আর আমিও তাকে বুঝবো। যার কথায় ও কাজে মিল থাকবে। সদা সত্যবাদী,সৎ ও নিষ্ঠাবান একজন মানুষ হবেন। যে কখনো প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করবে না, বিশ্বাসঘাতকতা করবে না। যার জীবনে আমি ব্যতীত অন্য কারো নারীর স্থান থাকবে না। এককথায় যাকে বলে সর্বদাই একনিষ্ঠ আর রবের প্রেমে নিজেকে সঁপে দেওয়া সম্পূর্ণ আধ্যাত্মিক একজন মানুষ। যাকে দেখলে আমি নিজেও দুনিয়ার মোহ ভুলে যাবো আর আল্লাহর কথা বেশি বেশি স্মরণ হবে। যিনি তার রবকে ভালোবাসেন কোনো কিছুর আশা না করেই। দুনিয়ার পাশাপাশি আমার আধ্যাত্মিক জ্ঞান অর্জনে যার ভূমিকা হবে সবচেয়ে বেশি। আমি জানি মানুষ নিখুঁত নয়, তবে চাইলে এই সবগুলো মৌলিক জ্ঞানই তিনিও অর্জন করতে পারেন। ইন শা আল্লাহ আমি নিজেকেও সেভাবেই গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। প্রকৃত অর্থে যিনি আমার শুধু দুনিয়া নয় আখিরাতের পথ চলার পাথেয় হবেন। আমি শুধু তাকে দুনিয়ায় নয় জান্নাতেও চাই। তবে এই পৃথিবীতে আমি শুধু তার কাছে মৌলিক গুণ গুলোর পাশাপাশি, তিনি যেন আমার প্রতি ন্যায়বিচার করেন এতোটুকুই প্রত্যাশা করবো। এখানে একটি বিষয় উল্লেখ্য যে: অতীতে একজন আমাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সে ফিরে আসবে এই আশায় আশায় আমি সুদীর্ঘ দেড় বছর কাটিয়ে দিয়েছি। কোনো পুরুষকেই তার স্থানে আসীন করিনি। পরে জানতে পারি সে অন্য একটি মেয়েকে বিয়ে করেছে। না, সে তার প্রতিশ্রুতি রাখেনি আর ফিরেও আসেনি। হ্যাঁ, তার মাঝেও দ্বীনদারিতা ছিলো, কিন্তু সততা ছিলো না। আমি চাই তিনি যেন এমন না হন। উপরোক্ত বিষয়টির ব্যাখ্যা: অতীতের মানুষটির সাথে আমার কোন হারাম রিলেশন ছিলো না। সে শুধু বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো আর তার স্বভাব চরিত্র ভালো লাগায় আমি তার জন্য সুদীর্ঘ দেড় বছর অপেক্ষা করেছি, এজন্য যে তাকে হারিয়ে ফেললে, আমি এমন দ্বীনদার ছেলে আর নাও পেতে পারি। কারণ, সে তার ইমেজটাই এমন করে রেখেছিলো আমার কাছে। আর অন্য পুরুষকে আসীন করিনি বলতে, আমি তাকে এতোটাই পছন্দ করে ফেলেছিলাম যে; অন্য কোন বিয়ের প্রস্তাব এক্সসেপ্ট করতে সম্মত ছিলাম না। তারপর একদিন জানতে পারলাম তার আসল চেহারা সম্পর্কে। মানুষটি উপরে উপরে ধার্মিক হলেও, সে কখনোই সৎ ছিলো না। এককথায় মুনাফিক বললেও ভুল হবে না। বিশেষ দ্রষ্টব্য: আমি কিন্তু কিছুই লুকোইনি। যিনি আমাকে সবকিছু মেনে নিয়ে সোজা বিয়ের নিয়ত করবেন, তিনিই যেন আমাকে দেখতে আসেন। যিনি সর্বদা একজন খাঁটি তেজদীপ্ত ঈমানের অধিকারী। আর এই কথাগুলো বলার একটাই কারণ, আমি চাই যিনিই আসবেন তিনি সবটা জেনেই আসুন। তিনিও যেন এমন চরিত্রহীন না হন। কারণ, এই পৃথিবীতে সবকিছুর প্রতিষেধক আছে কিন্তু চরিত্র একবার নষ্ট হয়ে গেলে তার কোন প্রতিষেধক নেই। এমনকি এই মানুষগুলো বিয়ের পরেও এমনই থাকে। তাই আমি চাই মানুষটি যেন হয় সম্পূর্ণ খাঁটি,সৎ, নিষ্ঠাবান, একনিষ্ঠ। এককথায় বলতে গেলে, আমি যেমন সত্যিকারের মানুষ তিনিও যেন এমন সত্যিকারের মানুষই হন। যদিও নিজের মেন্টালিটির মানুষ পাওয়া একটু দুষ্করই বটে। তবে অবশ্যই অবশ্যই অবিবাহিত হতে হবে। হ্যাঁ,অতীত থাকতেই পারে। তবে হারাম রিলেশনে জড়ানোর পর যা করার কথা নয় তাও করে ফেলেছেন, তারা প্লিজ প্রস্তাব পাঠাবেন না। আমি জানি মানুষ নিখুঁত নয়, তবে সে যেন সততা আর নিষ্ঠা আর ঈমানদারিতে একজন খাঁটি হীরে হয়। গুনাহ অবশ্যই থাকবে, তবে তাতে যেন কলঙ্কের দাগ না থাকে,যা মানুষের চোখে স্পষ্ট হয়। আল্লাহ ক্ষমাশীল তিনি আমাদের ক্ষমা করুন। হ্যাঁ, আধুনিক যুগে থেকেও আমি সেই পুরনো আমলে বাস করি, যে আমলের পুরুষরা ছিলো সত্যিকারের রিজাল পুরুষ। যারা দ্বীন কায়েমের জন্য সবকিছু ত্যাগ করতে রাজি ছিলো। এতগুলো কথা বলার একটাই কারণ, যিনি আমার জীবনসঙ্গী হবেন। তিনি যেন শুধু আমার জীবনসঙ্গী নন আমার দ্বীনের পরিপূর্ণতা দেওয়ারও যেন বাহক হন। কেননা, আমি নিজেকেও এভাবেই তৈরি করার চেষ্টা করছি। আমি জানি, এ যুগে এসেও আমি অসম্ভব গুণের অধিকারী একজন পুরুষকে চেয়েছি। তবে আল্লাহ তায়ালা চাইলে সবই সম্ভব।
|