| প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন কি? কবে থেকে পড়ছেন?
|
“আলহামদুলিল্লাহ, নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করার চেষ্টা করি। ছোটবেলা থেকেই নামাজের প্রতি অভ্যাস গড়ে উঠেছে, আর মাদ্রাসার দ্বীনি পরিবেশে তা আরও দৃঢ় হয়েছে। পাশাপাশি পারিবারিকভাবেও সবাই দ্বীনের বিষয়গুলো নিয়ে বেশ সচেতন ও গুরুত্বারোপ করেন, যার কারণে ছোট থেকেই নামাজ ও দ্বীনি আমলের প্রতি আলাদা গুরুত্ব পেয়ে আসছি। এখন সর্বদা চেষ্টা করি নামাজকে জীবনের অগ্রাধিকার দিতে এবং দ্বীনের উপর অবিচল থাকার। |
| সাধারণত সপ্তাহে কত ওয়াক্ত নামায আপনার কাযা হয়?
|
আলহামদুলিল্লাহ, সচেতনভাবে নামাজ আদায় করার চেষ্টা করি, সাধারণত কাজা হয় না। তবে অনিচ্ছাকৃতভাবে কখনো হয়ে গেলে পরে আদায় করে নিই। |
| শুদ্ধভাবে কুরআন তিলওয়াত করতে পারেন?
|
জি আলহামদুলিল্লাহ
|
| আপনার মানসিক বা শারীরিক কোনো রোগ আছে?
|
না আলহামদুলিল্লাহ
|
| মাজার সম্পর্কে আপনার ধারণা বা বিশ্বাস কি?
|
“মাজার সম্পর্কে আমার দৃষ্টিভঙ্গি হলো—নেককার মানুষের কবর সম্মানের যোগ্য, তবে মাজারকে কেন্দ্র করে কোনো শিরক বা বিদআত সমর্থন করি না। ইবাদত একমাত্র আল্লাহর জন্য।
|
| আপনার পড়া হয়েছে এমন অন্তত ৩ টি ইসলামি বই এর নাম লিখুন
|
দরসের জন্য সিয়া সিত্তাহ হাদিসসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ কিতাবের অধ্যয়ন করেছি। এছাড়া বাইরের আলোচনার জন্য ‘চোখে দেখা কবরের আজাব’, ‘হৃদয় গলে’ সিরিজের বই, ‘প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ’সহ অন্যান্য ইসলামী ও শিক্ষামূলক বই পড়েছি।
|
| আপনার পছন্দের অন্তত ৩ জন আলেমের নাম লিখুন
|
“আলহামদুলিল্লাহ, মুফতি আব্দুল মালেক সাহেব (হাফিজাহুল্লাহ), শায়েখ আহমাদুল্লাহ, মুফতি আরিফ বিন হাবিব, জাস্টিস মুফতি তাকি উসমানীসহ আহলে হক সকল উলামায়ে কেরামের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রয়েছে। তাঁদের বক্তব্য ও তাফসীর নিয়মিত শোনার চেষ্টা করি।
|
| নিজের শখ, পছন্দ-অপছন্দ, রুচিবোধ, স্বপ্ন ইত্যাদি বিষয়ে লিখুন |
আলহামদুলিল্লাহ, আমার শখের মধ্যে রয়েছে কোরআন তেলাওয়াত করা, ইসলামিক নাশীদ নিয়ে কাজ করা এবং স্টুডিওতে সময় ব্যয় করা। দ্বীনি ও সৃজনশীল কাজের সাথে যুক্ত থাকতে আমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি এবং এগুলোই আমার আত্মার প্রশান্তির অন্যতম মাধ্যম। মানুষের সাথে আচার-আচরণের ক্ষেত্রে আমি সাধারণত অপ্রয়োজনীয় মেলামেশা এড়িয়ে চলি, তবে যাদের সাথে সম্পর্ক গড়ে ওঠে তাদের সাথে আন্তরিকতা ও সম্মানের সাথে আচরণ করি। কথা ও কাজে যেন কেউ কষ্ট না পায়—এই বিষয়ে আমি সর্বদা সচেতন থাকি এবং শরীয়তের সীমার মধ্যে থেকে আপনজনদের সাথে সুন্দর সময় কাটানো, গল্প করা ও সম্পর্ক বজায় রাখাকে গুরুত্ব দিই। ইসলামিক নাশীদ শোনা, ঘোরাঘুরি করা এবং নতুন নতুন বিষয় জানা ও শেখার প্রতি আমার আলাদা আগ্রহ রয়েছে। আমার অপছন্দের বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে মিথ্যা বলা, সময় অপচয় করা, বাজে আড্ডা এবং অহংকার—এসব থেকে নিজেকে দূরে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। কারণ আমি বিশ্বাস করি, চরিত্রের পরিশুদ্ধতাই একজন মানুষের আসল সৌন্দর্য। রুচিবোধের ক্ষেত্রে আমি সাধারণ ও ইসলামিক পরিবেশকে প্রাধান্য দিই। জাঁকজমক, অতিরিক্ত ফ্যাশন বা কোলাহলপূর্ণ জীবন আমার কাছে আকর্ষণীয় নয়; বরং আমি শান্ত, শৃঙ্খল ও পরিমিত একটি জীবন পছন্দ করি, যেখানে অন্তর স্থির থাকে এবং আল্লাহর স্মরণে মন নিবিষ্ট থাকে। ভবিষ্যতের স্বপ্ন হলো দাওয়াতের কাজে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে যুক্ত করা, রাসূল (সা.)-এর সুন্নত অনুযায়ী জীবন ও ব্যবসা পরিচালনা করা এবং নিজের পরিবারকে দ্বীনের আলোয় প্রতিষ্ঠিত করা। পাশাপাশি ইসলামিক মিডিয়া ও নাশীদ-ভিত্তিক কাজকে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করার গভীর ইচ্ছা রয়েছে, ইনশাআল্লাহ। সব মিলিয়ে আমার একটাই চেষ্টা—একটি সাদাসিধে, পরিশুদ্ধ ও দ্বীনি জীবন গঠন করা, যেখানে প্রতিটি কাজের লক্ষ্য থাকবে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং আখিরাতের সফলতা।
|