| প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন কি? কবে থেকে পড়ছেন?
|
আলহামদুলিল্লাহ, ২০১৮ এ ইউনিভার্সিটি এডমিশন কোচিং এর সময় থেকে(২০১৮এর মাঝামাঝি থেকে ২০২৪ এর শেষাংশ, ছয় বছর যাবৎ) রেগুলার পাঁচ ওয়াক্ত, পূর্বে কখনো পড়েছি কখনো অনিয়ম হয়েছে(তখন খুব একটা দ্বীনের বুঝ ছিলো না)। |
| সাধারণত সপ্তাহে কত ওয়াক্ত নামায আপনার কাযা হয়?
|
শরঈ ওজর ব্যতীত কাযা হয়না আলহামদুলিল্লাহ। |
| শুদ্ধভাবে কুরআন তিলওয়াত করতে পারেন?
|
আলহামদুলিল্লাহ, ৩০পারার ছোট সূরা গুলোর মাধ্যমে হিফয করা শুরু করেছি। ইনশাআল্লাহ এই চেষ্টা অব্যাহত থাকবে এবং সময় সুযোগে সম্পূর্ণ কোরআনের উপর জ্ঞান অর্জনের ইচ্ছা পোষণ করি এই ভেবে যে আল কুরআন বান্দাদের প্রতি স্বয়ং আমার রবের প্রেরিত বার্তা। এই বার্তা নিজের মধ্যে ধারণ করে এবং ব্যক্তি জীবনে তার প্রয়োগ ঘটিয়ে নিজেকে সমৃদ্ধ করতে চাই।
|
| আপনার মানসিক বা শারীরিক কোনো রোগ আছে?
|
চশমা ইউজ করা হয় এবং কিছু খাবারে এলার্জি আছে এছাড়া আলহামদুলিল্লাহ আর কোনো সমস্যা নেই।
|
| মাজার সম্পর্কে আপনার ধারণা বা বিশ্বাস কি?
|
মাজার একটি সাধারণ কবর মাত্র, এটি জিয়ারত করা যেতে পারে। তবে মাজারের কাছে কিছু চাওয়া এবং সেই আশা পূরণের আকাঙ্ক্ষা করা শিরক। শিরকে লিপ্ত হওয়া ব্যক্তি মুশরিক।
|
| আপনার পড়া হয়েছে এমন অন্তত ৩ টি ইসলামি বই এর নাম লিখুন
|
প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ ০১, প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ ০২, জীবন যেখান যেমন।
|
| আপনার পছন্দের অন্তত ৩ জন আলেমের নাম লিখুন
|
ড.খোন্দকার আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর রাহিমাহুল্লাহ, শায়েখ আহমাদুল্লাহ হাফিজাহুল্লাহ , ড. মোহাম্মদ মানজুরে এলাহী, প্রফেসর ড. মোখতার আহমাদ।
|
| নিজের শখ, পছন্দ-অপছন্দ, রুচিবোধ, স্বপ্ন ইত্যাদি বিষয়ে লিখুন |
প্রথমেই বলে নেই, এই অংশে আমি বিশেষ কিছুটা বিস্তারিত করার চেষ্টা করবো যেন নিজের মোটামুটি একটি প্রতিচ্ছবি দাড় করাতে পারি এবং অপর পক্ষ আমার ব্যাপারে একটি স্বচ্ছ ধারনা নিয়ে আগাতে পারেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিনয়ী, সহজ সরল জীবন যাপনে অভ্যস্ত, ইসলামী অনুশাসন ও বিধিবিধান নিজে মেনে চলি এবং অন্যান্যদের উৎসাহিত করি। দ্বিনী ইলম অর্জনের চেষ্টা করি, মাহরাম নন মাহরাম পরিপূর্ণ ভাবে মেনে চলি। ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নাত ইবাদতের পাশাপাশি নফল ইবাদত পালন এবং প্রতিনিয়ত আমল বৃদ্ধিতে তৎপর। সর্বোপরি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তি কামনা করি। কোরআন ও সুন্নাহের আলোকে আখিরাত মুখী জীবন অতিক্রম করে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের প্রস্তুতকৃত ৮টি বেহেশতের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ "জান্নাতুল ফেরদাউস" এ যেন প্রবেশ করতে পারি সেই অনুযায়ী জীবন অতিবাহিত করতে চাই। জেনারেল লাইনে পড়াশোনা সত্বেও ফ্রি মিক্সিং এড়িয়ে চলেছি সর্বদা। উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল কম্বাইন্ড হলেও কলেজ ছিলো অনলি ফিমেল। বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেছি। ক্লাসে ছেলেদের সাথে কথা বলা থেকে শুরু করে সর্বপ্রকার ইন্টারেকশন এড়িয়ে চলেছি। আলহামদুলিল্লাহ, পড়াশোনার প্রয়োজনেও ছেলে ক্লাসমেট দের সাথে সকল প্রকার ইন্টারেকশন(অফলাইন কিংবা অনলাইন) সর্বাত্মক এড়িয়ে চলেছি। থার্টি ফার্স্ট নাইট কিংবা জন্মদিন সহ এই ধরনের যে সকল ইসলাম বহির্ভূত সংস্কৃতি রয়েছে তা উদযাপন থেকে বিরত থাকি এবং ঘটা করে বিবাহ বার্ষিকী উৎযাপন করাকে নিরুৎসাহিত করি। কারণ এগুলো বিজাতীয় এবং ফাসেকদের সংস্কৃতি। ইউনিভার্সিটি কোচিং চলাকালীন (জুন ২০১৮) রাব্বের দেয়া অন্যতম সেরা নিয়ামাহ হেদায়াত পাই। তখনই নিয়্যাত করি নিজের জীবন কে পরিপূর্ণ ইসলামিক ধাচে সাজাবো। ইউনিভার্সিটি ভর্তির সময় থেকে দ্বীনি বিষয়ে জানার চেষ্টা অব্যাহত রাখা,নিজেকে আরো সংশোধন করা,দ্বীনের বিধি বিধান মেনে চলার চেষ্টা করা। হেদায়াত পাওয়ার পর থেকে যেকোনো পরিবেশে হঠাৎ করে মিশে যাওয়া কিছুটা সময় সাপেক্ষ হলেও অনুকূল পরিবেশে মিশুক। অন্তর্মুখী(ইন্ট্রোভার্ট) স্বভাবের, কথা বার্তায় হিসেবী, জবানের হেফাজতে(গীবত, পরচর্চা) খুব তৎপর, ফাহেশা কথা, গল্প অপছন্দনীয়। পরিপাটি ও গোছালো প্রকৃতির। হেলদি লাইফস্টাইল এন্ড নিউট্রিশনাল ফুড টেকিং হেবিট, আলহামহাদুলিল্লাহ। অনেক বেশি দ্বীনি ইলম অর্জন করতে নিজের মধ্যে গভীর তৃষ্ণা অনুভব করি। প্রতিনিয়ত নিজেকে নলেজিবল হিসেবে গড়ে তুলতে পছন্দ করি। যেকোনো কাজ বা পদক্ষেপ নিতে গেলে মনে হয় ইসলামে এর বিধান কি, আল্লাহ আমাকে কি নির্দেশনা দিয়েছেন। দৈনন্দিন জীবনে চলার পথে ছোট ছোট সুন্নাহ সম্পর্কে জানা এবং আমলে পরিণত করার চেষ্টা করছি। আমার কথায় যেন কারো মনে কষ্ট না হয় এবং আমার দ্বারা যেন কারো হক নষ্ট না হয় সে বিষয়ে সদা সজাগ দৃষ্টি রাখি। দর্শনীয় স্থানে ঘুরতে, ট্র্যাভেল করতে পছন্দ করি। নদী,পাহাড়, সমুদ্র খুব পছন্দের। তবে হাতে গুনা কিছু জায়গা ব্যতীত বেশি কোথাও ঘুরা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যতো ট্যুর হয়েছে সেগুলো এড়িয়ে চলেছি, গান বাজনা এবং ফ্রি মিক্সিং এর ভয়ে। জাওযের সাথে যতো জায়গা সাধ্য হবে এক্সপ্লোর করার ইচ্ছা আছে, ইনশাআল্লাহ। ইসলাম একটি পূর্নাঙ্গ জীবন বিধান,শান্তির ধর্ম। আমি ইসলামের বিধান সমূহের কাছে সম্পূর্ণরূপে আত্মসমর্পণ করতে চাই। নিজের অনুকূলে থাকা কিছু বিধান আমি মেনে চললাম আর কিছু ছেড়ে দিলাম, এমন মুসলিম হওয়া থেকে আল্লাহ আমাকে হেফাজত করুন। তবে ভুল ত্রুটি নিয়েই মানুষ। আমি নিজের মধ্যে অনেক ভুল দেখি এবং বোধ করি আমার নিজেকে নিয়ে অনেক কাজ করতে হবে। আত্মসমালোচনার মধ্য দিয়ে আত্মশুদ্ধি এবং আত্ম উন্নয়নের দিকে নিজেকে ক্রমাগত এগিয়ে দিতে হবে। বিষয়টি এমন যেন আমি কেবলই একটি পথ ধরে যাত্রা শুরু করলাম, এগিয়ে যেতে থাকলাম এবং আমাকে যেতে হবে অনেকদূর। সাধারণত নিজেকে সবার আড়ালে রাখতে এবং যথেষ্ট প্রাইভেট জীবন যাপন করতে পছন্দ করি। একই চিন্তাধারার মানুষের সাথে সময় কাটাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। মানুষকে সাহায্য করতে ভালোবাসি। অল্পে সন্তুষ্ট এবং অপচয় অপছন্দ করি। অপ্রয়োজনীয় ভোগবিলাসিতা এবং হালাল হারাম বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার চেষ্টা করি। লৌকিকতা অপছন্দনীয়। হারাম সম্পর্ককে ঘৃণা এবং ভয় করি, ফিতনা থেকে বাচঁতে বিয়ে ঢাল হিসেবে কাজ করবে, ইনশাআল্লাহ। আমি একটি সুন্দর, মার্জিত,কম্প্রোমাইজিং, আন্ডারস্ট্যান্ডিং, পরোপকারী, শ্রদ্ধা এবং সহনশীলতা পূর্ণ ইসলামিক সংসারের স্বপ্ন দেখি যেখানে দৈনন্দিন জীবনে ইসলামের বিধান এবং সুন্নাহ সমূহকে সদা জাগ্রত রাখা হবে। আমি সর্বদা চেষ্টারত আমার বাবা মায়ের আদর্শ মেয়ে এবং ভাই বোনদের আদর্শ বোন হয়ে উঠতে। একইভাবে খুব করে চাই একজন আদর্শ স্ত্রী এবং মা হয়ে একটি আদর্শ পরিবার গঠন করতে। এতেই তো নারীত্বের দায়িত্ব ও সৌন্দর্য লুকায়িত! সন্তানদের এমনভাবে গড়ে তুলতে চাই যেন আমরা মারা গেলেও তাদের নেক আমলের উসিলায় আমাদের আমল নামায় নেকি জমা হতে থাকবে। দ্বীনের পথে চলার এই জার্নিটা যতো এগিয়ে যাচ্ছে ততই উপলব্ধি হচ্ছে যে আমাদের জীবনে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিষয় হলো ইসলাম এবং পরিবার। একটি অপরটির পরিপূরক। তাই জীবনসঙ্গী নির্বাচনের এই জায়গাতে আমি যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করার চেষ্টা করছি যেন তার সান্নিধ্যে আমার দ্বীনের উপর অটল থাকা এবং পথচলাটা সহজতর হয়। আমি আমার পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে পছন্দ করি। আলহামদুলিল্লাহ মিতব্যয়িতার চর্চা করা হয়। নিজের সাধ্যের মধ্যে যতোটুকু সম্ভব নিজের ও পরিবারের জন্য ব্যয় করি। মানুষের সাথে কথা বলতে এবং মনোযোগ দিয়ে অন্যের কথা শুনতে পছন্দ করি। কোনো বিষয়ভিত্তিক আলোচনায় দ্বিমত পোষণ করলেও অপর পক্ষের পয়েন্ট অব ভিউ বুঝার চেষ্টা করি। নিজের ভুলগুলোকে বুঝে নিয়ে সেটা কাটিয়ে উঠার প্রয়াস থাকে। দ্বীনের বিষয়ে ছাড় দিতে অনিচ্ছুক। দ্বীনের যেই বুঝ আল্লাহ আমাকে দিয়েছেন তা দিয়ে বাকি জীবন পার করে ঈমানের সাথে বিদায় নিতে চাই,ইনশাআল্লাহ। আবাসিক হল কিংবা বাড়ির বাইরে বের হওয়াকে মিনিমাইজ করার প্রয়াস থাকে সবসময়।। ফেসবুকে শতভাগ মাহরাম, নন মাহরাম মেনটেইন করি। আমি নিতান্তই আল্লাহর একজন নগন্য বান্দি। আল্লাহ তায়ালা খুব দয়া করে আমাকে সঠিক পথ দেখিয়েছেন, যা ছিলো আমার চির কাঙ্ক্ষিত। আমি আল্লাহর নিকট সবসময় প্রার্থনা করতাম তিনি যেন আমাকে সঠিক পথ দেখান এবং সিরাতুল মুস্তাকীম চিনে নিতে সহায়ক হোন। আল্লাহ আমার আর্জি কবুল করেছেন। আমার কাছে হিদায়াহ এসেছে আলোর দিশারী হয়ে। তবে এই পথটা আমাকে খুঁজে নিতে যথেষ্ট সময় দিতে হয়েছে। কোথাও পড়েছিলাম বান্দা আল্লাহর দিকে এক কদম আগালে আমার রব বান্দার দিকে ১০কদম এগিয়ে আসেন। বান্দা হেঁটে হেঁটে রবের দিকে আগালে আমার রব দৌড়ের গতিতে বান্দার দিকে এগিয়ে আসেন। আমি নিজের ক্ষেত্রে ঠিক তেমনটাই অনুভব করেছি। ইসলামী যেকোনো নির্দেশনা মেনে নিতে নিজের মধ্যে প্রশান্তি ও শীতলতা অনুভব করি।
|